সিসা বা হুকা লাউঞ্জ বন্ধে সারাদেশে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর বনানী ও গুলশান এলাকায় অনুমোদনবিহীন সকল বার ও সিসা লাউঞ্জ বন্ধে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম। বৈঠকে দেশের সকল গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান,সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা যায়, সিসা লাউঞ্জের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ লঙ্ঘনের অভিযোগ বেড়ে যাওয়ায় সরকার এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আইন অনুযায়ী, জনসমাগমস্থলে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
এছাড়া সম্প্রতি সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতের একটি মন্তব্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। আদালত সিসা লাউঞ্জ পরিচালনাকে সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। আদালতের ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই কোর কমিটি এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, সিসা ও মাদক ব্যবসায়ীদের কেউ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে কি না—বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য জড়িত আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযানে কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করতে বলা হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, মাদক ও তামাক আইনের কঠোর প্রয়োগ তরুণ সমাজকে সিসা ও মাদকাসক্তি থেকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে


