ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানী ও গুলশানে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একের পর এক অবৈধ সিসা লাউঞ্জ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সম্প্রতি আলোচিত “৩৬০ ডিগ্রি সিসা বারে” ইন্টারনেট ব্যবসায়ী রাহাত হোসেন রাব্বি হত্যাকাণ্ডের পর সাময়িকভাবে কিছু লাউঞ্জ বন্ধ থাকলেও এখন দিনের বেলাতেও প্রকাশ্যে শীশা সরবরাহ করা হচ্ছে।
আলো-আঁধারের আড়ালে অপরাধ জগৎ
অভিজাত ক্যাফে ও রেস্তোরাঁর আড়ালে গড়ে উঠেছে এক ভয়ঙ্কর অন্ধকার দুনিয়া। এখানে বসে শুধু শীশাই নয়, সাথে থাকে আইস, ইয়াবা, ফেনসিডিল, হিরোইন, লিকুইড কোকেন ও গাঁজার আসর। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে সক্রিয় হয়ে ওঠে অপরাধী চক্র, যারা মাদক সেবনের পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
অভিযুক্ত লাউঞ্জ ও মালিকদের ঠিকানা
1. “32 Degree Shisa Lounge Banani” – মালিক: রায়হান, ঠিকানা: House 32, Road 17, Block E, Banani, Dhaka-1213।
2. “Qds Shisa Lounge” – মালিক: শাহিন কবির, ঠিকানা: House 1, Road 11, Banani, Dhaka-1212।
3.hote sweet অষ্টম তলা বনানী কামাল আতাতুর্ক
বনানীতে অবৈধ সিসা লাউঞ্জের তালিকা
শুধু বনানীর ১১ নম্বর রোডেই অবৈধভাবে চলছে অন্তত ১৫টি সিসা লাউঞ্জ। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
৩৬০ ডিগ্রি, ৩২ ডিগ্রি, কিউডিএস, হোটেল সুইট ড্রিম সেলসিয়াস, এক্সোটিক, সিগনেচার, অরা, আরগেলা, সিলভার, মারবেলা, হাবিবি, এক্সাইল, হেইজ’হবনব।
এছাড়া গুলশানে মন্টানা নামে দুটি সিসা লাউঞ্জ পরিচালিত হচ্ছে।
নিকোটিনের ভয়াবহ মাত্রা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) পরীক্ষায় দেখা গেছে, কোনো সিসা ফ্লেভারেই ০.২% এর নিচে নিকোটিন পাওয়া যায়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা ০.৫% পর্যন্ত। আইন অনুযায়ী ০.২% এর বেশি নিকোটিনযুক্ত সিসা সরাসরি মাদক হিসেবে গণ্য হয়। তাই স্বাস্থ্য অধিদফতর এসব লাউঞ্জকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করেছে।
প্রশাসনের অবস্থান
ডিএনসির অতিরিক্ত মহাপরিচালক গোলাম আজম জানান, “ঢাকায় বৈধ কোনো সিসা বার নেই। তবুও বনানীতে অন্তত ২১টি সিসা বার সক্রিয়। খুব শিগগিরই অভিযান চালিয়ে এসব বন্ধ করা হবে।”
র্যব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকায় অবৈধ সিসা লাউঞ্জগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
জনম
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের বেলাতেও খোলাখুলিভাবে সিসা সরবরাহ হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ ঘটনার পরও যদি অবৈধ ব্যবসা বন্ধ না হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।


